গরম এলেই অনেক পরিবারে শোনা যায়—এই সময়ে বেশি ডিম খাওয়া ঠিক নয়, এতে নাকি শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, গ্রীষ্মকালে ডিম খেলে হজমের সমস্যা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারণার পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
মুম্বাইয়ের জাইনোভা শালবি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ জিনাল প্যাটেল জানান, ডিমকে ঘিরে প্রচলিত এই ধারণা মূলত ভুল।
তিনি বলেন, ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী একটি খাবার। একটি ডিমে প্রায় ৬–৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের জোগান দেয়। পাশাপাশি এতে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। তাই শুধু গরমের কারণে ডিম খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞের মতে, আসল ঝুঁকি ডিমে নয়, বরং ডিম সংরক্ষণ ও রান্নার পদ্ধতিতে। ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। অপরিষ্কার বা কম সেদ্ধ ডিম খেলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি কিংবা পেটে মোচড়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গরমকালে ডিম খাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যেমন—কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিম না খাওয়া, ডিম সবসময় ফ্রিজে রাখা এবং দীর্ঘ সময় বাইরে না ফেলে রাখা। এছাড়া অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত রান্নার বদলে সেদ্ধ, পোচ বা হালকা স্ক্র্যাম্বলড ডিম খাওয়াই ভালো। ডিমের সঙ্গে সালাদ, শাকসবজি বা হোল গ্রেইনের মতো হালকা খাবার রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
তার মতে, একজন সুস্থ মানুষ সাধারণত দিনে ১ থেকে ২টি ডিম নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তবে কারও শরীরে ডিম খাওয়ার পর অস্বস্তি বা অতিরিক্ত গরম লাগলে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, গরমে ডিম খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; শুধু সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করলেই এটি নিরাপদ ও উপকারী খাবার হিসেবে খাওয়া যায়।

