Homeসারাদেশনার্সের ভুলে ‘এ’ নেগেটিভ কিশোরীকে দেওয়া হলো ‘ও’ পজিটিভ রক্ত

নার্সের ভুলে ‘এ’ নেগেটিভ কিশোরীকে দেওয়া হলো ‘ও’ পজিটিভ রক্ত

জামালপুরে নার্সের গাফিলতিতে এক কিশোরীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কিশোরী আফসানা আক্তার (১৪) শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। বর্তমানে তিনি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায় নানাবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আফসানা নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন আগে পেটে ব্যথা নিয়ে আফসানাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে এবং গত মঙ্গলবার তার অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তার আফসানার শরীরে রক্ত দিতে না বলার পরও আঁখি নামের একজন নার্স ‘এ’ নেগেটিভধারী আফসানার শরীরে ‘ও’ পজেটিভ রক্ত প্রয়োগ করে। দেওয়ার কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেন নার্স। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আফসানাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগের ফলে আফসানা বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত এবং তার বমি বমি ভাব রয়েছে। নার্সের গাফিলতির কারণে ওই রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আফসানার মামা আবির হাসান বলেন, পেটে ব্যাথার কারণে আমার ভাগ্নিকে কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে জামালপুর এনে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখানো হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান কিডনিতে ময়লা জমেছে। পরে তাদের পরামর্শে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি এবং গতকাল অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে তাকে রাখা হয়। পরে বিকেলে আঁখি নামের একজন নার্স আমার ভাগ্নির শরীরে ‘ও’ পজেটিভ রক্ত প্রয়োগ করে। এদিকে আমার ভাগ্নির রক্ত ‘এ’ নেগেটিভ। রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেয় ওই নার্স। কিন্তু এটা নিয়ে নার্সদের মধ্যে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া ছিল না। আমি এ খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। তখনও কর্তব্যরত চিকিৎসক বা নার্সরা কেউই বিষয়টা নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। পরে জানতে পারি আমার ভাগ্নির শরীরে যে রক্ত দেওয়া হয়েছে সেটি ছিল পাশের বিছানার সিজারের রোগীর রক্ত। এ ঘটনায় আমি জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

আফসানার মা আন্জু আরা বলেন, আমার মেয়ের কোনো রক্তের প্রয়োজন ছিল না। হঠাৎ করেই নার্স রক্ত নিয়ে এসে শরীরে দেওয়া শুরু করেন। ডাক্তারতো রক্তের কথা বলে নাই এমন কথা বললে ওই নার্স খারাপ আচারণ করে বলেন- আমার চেয়ে বেশি বুঝেন। এই বলে আমার মেয়ের শরীরে রক্ত দেওয়া শুরু করেন।

এ বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নার্সের গাফিলতির কারণে ভুলবশত ‘ও’ পজেটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরেই আমরা রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেই। পরে রোগীকে ডাক্তারের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। এখন রোগীর অবস্থা ভালো আছে। নার্সের গাফিলতির কারণে ওই রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ওই নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments