প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সংগ্রাম করেছি, আমরা আন্দোলন করেছি এবং তারপর স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছে এই দেশ থেকে। এখন আমাদের সামনে কাজ করতে হবে, আমাদেরকে এখন দেশকে গড়তে হবে, আমাদের দেশকে সামনে নিয়ে যেতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গত কিছু দিন যাবত খেয়াল করে দেখছি এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ আছে, তারা একটি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা আমাদের যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনাগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি অনেক ব্যক্তি হঠাৎ করে অস্বাভাবিক একটি টিকিট বিক্রির কাজে লেগে গেল। আপনার পেয়েছেন কোনো টিকিট-ফিকিট? টিকিট পাননি আপনারা। কারণ এই টিকিট হচ্ছে বায়বীয় টিকিট।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং বলেছেন-তোমরা কাজ তোমাদেরটা করো, আমি আমারটা দেখবো। আল্লাহ বলেছেন- যে জাতি নিজে পরিশ্রম করে, আমি তাদেরকে সহযোগিতা করি, কিন্তু বসে বসে কোনো কাজ হয় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ শহীদ জিয়ার দল, খালেদা জিয়ার দলকে ম্যান্ডেট দিয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করার। বাংলাদেশের মানুষ বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনে ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার। বাংলাদেদের মানুষ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে বৃক্ষরোপণ করার জন্য। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে বন্ধ কলকারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্য।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছে কীভাবে গ্রামে গ্রামে স্কুল কলেজ তৈরি হয়েছিল। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের আস্থা আছে বিএনপির ওপরে। বিশ্বাস করে বিএনপিকে। সেই জন্যই বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ১২ তারিখের নির্বাচনে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি জনগণের কাছে দিয়েছে সেই প্রতিশ্রুতি যাতে বিএনপি পালন করতে পারে, বাস্তবায়ন করতে পারে তার ম্যান্ডেট জনগণ বিএনপিকে দিয়েছে। একদল লোকের এই ম্যান্ডেট পছন্দ নয় এবং সেই জন্যই দেখেছেন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তারা বক্তৃতা দিচ্ছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে বিএনপি ফ্যাসিবাদের দোসর।
তিনি বলেন, আসুন আমরা দেখি কারা ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গিয়েছে। ৫ আগস্টের পরে বিএনপি পরিষ্কার বলেছে- জুলাই-আগস্ট মাসে যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের আইনে বিচার হতে হবে। তাদের বিচার হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি পাঁচ তারিখের পরে কেউ কেউ বলেছিল আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। বলেছিল না? বলেছিল। বিএনপি বলেছিল এই দেশের জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি সেটি মাথা পেতে নেবে এবং বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। কিন্তু আমরা কয়েকদিন আগে দেখেছি যারা বক্তৃতার মঞ্চে জোরে জোরে কথা বলে তাদেরকেই গিয়ে দেখেছি ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে ঢাকা থেকে অনেক দূরে গিয়ে মিটিং করতে। জনগণ যখন সেটা ঘিরে ফেলেছে তখন আর তারা কোনো জবাব দিতে পারে না- কেন ফ্যাসিবাদের সাথে গিয়ে মিটিং করেছে।

