লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের দিক থেকে বিগত সকল আসরকে ছাড়িয়ে গেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম আসর। কোনো আসরে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচে দুইশ’র বেশি লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের রেকর্ড হয়ে গেল গতকাল (বুধবার)। ফলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার রায়ান রিকেলটনের করা রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি ম্লান হয়ে গেছে। বিপরীতে ট্রাভিস হেড ও হেইনরিখ ক্লাসেনদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মুম্বাইয়ের দেওয়া ২৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
আইপিএলের চলতি আসরে এখন পর্যন্ত হয়েছে ৪১ ম্যাচ, ফাইনালসহ সবমিলিয়ে আরও ৩৩ ম্যাচ বাকি। কিন্তু এরইমাঝে ১০ ম্যাচে দুইশ’র বেশি লক্ষ্য তাড়ায় সফল হয়েছে পরে ব্যাট করা দল। ২০২৫ আসরে সর্বোচ্চ ৯ ম্যাচে দুইশ’র বেশি রানতাড়ায় সফলতার রেকর্ড ছিল। এবার সেটিকে ছাড়িয়ে গেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। কয়েকদিন আগে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ রান তাড়ায় জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল পাঞ্জাব কিংস। বোঝাই যাচ্ছে ২০২৬ আইপিএল লক্ষ্য তাড়ায় বড় ধামাকা নিয়ে এসেছে।
হায়দরাবাদের বিপক্ষে ওয়ানখেড়েতে স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৪৩ রান তোলে। ওয়ানখেড়েতে টি-টোয়েন্টির প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা দলের সর্বোচ্চ রান এটি। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে হায়দরাবাদ আইপিএলের চতুর্থ সর্বোচ্চ ২৪৪ রানতাড়ায় সফল হলো। লক্ষ্য তাড়ায় তারা তো সফল হয়েছে–ই, গন্তব্যে পৌঁছেছে ৮ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে। ফলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে সবচেয়ে দ্রুতগতির সেঞ্চুরি এবং ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেও পরাজয়ের তিক্ততা সঙ্গী হলো রিকেলটনের।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রিকেলটন ও উইল জ্যাকস মিলে ঝোড়ো শুরু এনে দেন মুম্বাইকে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা ৭৮ রান তোলেন। ৭.১ ওভারে ৯৩ রান তুলতেই ফেরেন জ্যাকস। ইংলিশ এই ব্যাটার ২২ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ রান করেন। তবে শেষ পর্যন্ত টিকেছিলেন রিকেলটন। প্রোটিয়া এই তারকা ৫৫ বলে ১২৩ রানের ইনিংস সাজিয়েছেন ১০ চার ও ৮ ছক্কায়। এর আগে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৪ বলে, যা মুম্বাইয়ের কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে দ্রুততম। এর আগে ২০০৮ আসরে সনৎ জয়সুরিয়া ৪৫ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
এ ছাড়া মুম্বাইয়ের ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ১১৪ রানের রেকর্ডটিও ছিল জয়সুরিয়ার দখলে। শ্রীলঙ্কান এই কিংবদন্তির এই রেকর্ডও ভেঙেছেন রিকেলটন। ম্যাচটিতে মুম্বাইয়ের হয়ে শেষদিকে ১৫ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। ফলে তাদের পুঁজি দাঁড়ায় ২৪৩ রানের। হায়দরাবাদের পক্ষে প্রফুল হিঞ্জ সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেন। লক্ষ্য তাড়ায় হায়দরাবাদের ট্রাভিশেক (ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা) জুটিও তাণ্ডব চালিয়েছেন। দুজন মিলে কেবল পাওয়ার প্লেতেই তোলেন ৯২ রান। দুই দল মিলে করা ১৭০ রান আইপিএলের এক ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৪ আসরে একই রেকর্ড গড়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস ও পাঞ্জাব কিংস। ২৪ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় অভিষেক ৪৫ রানে ফিরলেও, হেডের ঝড় স্থায়ী হয়েছে আরও কিছুক্ষণ। ৩০ বলে ৪ চার ও ৮ ছক্কায় ৭৬ রান করেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা। ইশান কিষাণ কোনো রান না করে ফিরলেও অসুবিধায় পড়তে দেননি হেইনরিখ ক্লাসেন ও সলিল অরোরা। ক্লাসেন ৩০ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৫ এবং সলিল ১০ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসে হায়দরাবাদের জয় নিশ্চিত করেন।

