মাগুরার শ্রীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি মসজিদের ভেতরে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন গুরুতর আহতসহ আরও কয়েকজন জখম হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এ হামলা চালায়।
শুক্রবার (১ মে) শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে দুটি সামাজিক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং একই কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলু। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে লাল্টু শেখ নামে এক কৃষককে ক্ষেতে একা পেয়ে দুলু গ্রুপের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
এদিকে, এ ঘটনার পর আহত লাল্টু শেখের পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতা সাচ্চু গ্রুপের লোকজন চরজোকা পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে জড়ো হয়। জুমার নামাজ শেষ হলেও তারা ধারালো দা ও লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়, ফলে দুলু সমর্থিত লোকজন মসজিদের ভেতরে আটকা পড়ে। মুসল্লিরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল ও রেজাউল শেখকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহতদের মধ্যে মোক্তার শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে মসজিদে ঢুকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু। তিনি বলেন, দুলু গ্রুপের লোকজন সুযোগ পেলেই তাদের পক্ষের লোকজনকে মারধর করে। লাল্টু শেখকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করার পর মসজিদের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় তাদের কেউ বাইরে থেকে আহত হয়ে মসজিদের ভেতরে ঢুকে যেতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, হাবিবুর রহমান দুলু অভিযোগ করেন- প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মসজিদে ঢুকে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
শ্রীপুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, সামাজিক বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

