Homeআন্তর্জাতিকগ্রিসে কারাগারে বাংলাদেশির মৃত্যু : স্বজনের অনুরোধে সেখানেই হবে দাফন

গ্রিসে কারাগারে বাংলাদেশির মৃত্যু : স্বজনের অনুরোধে সেখানেই হবে দাফন

গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক বাংলাদেশি ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে তার পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান না পাওয়ায় এবং বিদেশে অবস্থানরত এক স্বজনের অনুরোধে মরদেহটি স্থানীয়ভাবে দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা অন্য কোনো সরকারি নথি না থাকায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি একজন ‘আনডকুমেন্টেড’ বা নথিপত্রহীন কর্মী ছিলেন। গ্রিক নথিতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস মরদেহটি গ্রহণ করে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরানের পূর্বপুরুষদের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায় হলেও সেখানে বর্তমানে পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অন্য একটি দেশে অবস্থানরত তার ভাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন নেই। তিনি মরদেহ দেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফনের জন্য অনুরোধ জানান এবং এ বিষয়ে অনাপত্তিপত্র প্রদান করেন।

দূতাবাস জানায়, পরিচয় নিশ্চিত না হলে এবং বাংলাদেশি হিসেবে সুস্পষ্ট তথ্য না থাকলে এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কার্যক্রম গ্রহণে বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবুও মানবিক দিক বিবেচনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরদেহ মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনী এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে দাফনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল এবং স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন করতে হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটে শুধু বৈধ কাগজপত্রধারী কর্মীদের মরদেহ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়; বিদেশে দাফনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত হলে আনডকুমেন্টেড কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখা হয়। এক্ষেত্রে মৃতের পরিবারের সুনির্দিষ্ট অনুরোধে গ্রিসেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ৭ মে (বৃহস্পতিবার) দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে। সার্বিক বিষয়টি দূতাবাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments