ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নেশার টাকার জেরে আয়েশা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই নাতি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের জাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা খাতুন ওই গ্রামের মৃত নবী হোসেনের মেয়ে। গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিন মৃত মহিদুল ইসলামের ছেলে। সম্পর্কে তারা দাদি-নাতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে আয়েশা খাতুনের স্বামী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। একমাত্র ছেলে মারা যাওয়ার পর নাতি জসিম উদ্দিনকে তিনি নিজের কাছে লালন-পালন করেন। জসিমের মা পরবর্তীতে অন্যত্র বিয়ে করে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। বড় হয়ে জসিম বিয়ে করে আলাদা বসবাস শুরু করলেও পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তিনি একাই বসবাস করছিলেন।
এদিকে আয়েশা খাতুনের নামে থাকা জমির কিছু অংশ জসিম চাষাবাদ করতেন। তবে জমি লিখে দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের ধারণা, আত্মীয়দের কাছে জমি চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে জসিম দাদির ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, জসিম উদ্দিন মাদকাসক্ত এবং এলাকায় ছিঁচকে চোর হিসেবে পরিচিত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই দাদির কাছে টাকা চাইতেন। ঘটনার দিনও টাকা ও জমি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ধারালো দা দিয়ে দাদিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, জসিম আগে দাদির দেওয়া নিজের অংশের জমি বিক্রি করে ফেলেছিলেন। পরে তার মায়ের অংশ হিসেবে থাকা জমি ফেরত চেয়ে দাদির ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এসব বিষয় নিয়েই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার পর স্থানীয়রা জসিমকে ধরার চেষ্টা করলেও তার হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় কেউ এগোতে পারেনি। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

