Homeসারাদেশআলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে রংপুর চিড়িয়াখানায় দেখতে চায় দর্শনার্থীরা

আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে রংপুর চিড়িয়াখানায় দেখতে চায় দর্শনার্থীরা

ঈদের দিন থেকেই ভ্যাপসা গরম। ঝলমলে আকাশে রোদের ঝিলিক। তাপমাত্রা উঠানামা করছে। ছাতা ছাড়া বাহিরে বের হওয়াটা যেন অসহনীয়। এমন অসহ্য গরমেও থেমে নেই ঈদ আনন্দ। গরম উপেক্ষা করে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে মানুষের ভিড়। ছোট-বড় সববয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে রঙিন হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থানগুলো। ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। সাথে বেরিয়েছে অভিভাবকরাও। সবমিলিয়ে গরমও হার মেনেছে ঈদানন্দে।

ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন শনিবারও (৩০ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রংপুর চিড়িয়াখানা, ভিন্নজগত, আনন্দনগর, চিকলি ওয়াটার পার্ক, নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদী, টাউন হল চত্বর, শতবর্ষী তিস্তা রেলওয়ে সেতু, মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্ট জুড়ে ছিল মানুষের ঢল। সব বয়সী মানুষের ঈদ উদযাপনের খোরাক যোগাচ্ছে এসব বিনোদন কেন্দ্র।

দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে মানুষের ভিড় চোখে পড়েছে। দুপুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নগরীর নিসবেতগঞ্জের ঘাঘট নদীর তীরে রক্ত গৌরব চত্ত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক ও ঘাঘট নদীর অংশ বিশেষসহ পাশ্ববর্তী বিস্তৃত নিচু এলাকায় সবুজের সাজানো কোলাহল মুক্ত পরিবেশে মানুষের ঢল নেমেছে।

পীরগাছার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা আর্নিকা রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অসহ্য গরমের মধ্যেও আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের আনন্দ আড্ডা থেমে নেই। সবাই মিলে খুব মজা করে বেড়াচ্ছি। চিড়িয়াখানায় জিরাফ, ভাল্লুক, সিংহ, হাতিসহ নতুন নতুন প্রাণী আনা দরকার। এখানে যদি আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ থাকত তাহলে প্রচুর দর্শনার্থী আসতো। আমরা চাই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে রংপুরে আনা হোক।

শিশুপার্কে কথা হয় মারুফা আক্তারের সাথে। তিনি পরিবারের ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ঢাকা পোস্টকে এই দর্শনার্থী বলেন, গরমের কারণে গত দুদিন বের হতে পারিনি। আজ গরম উপেক্ষা করে বাচ্চাদের সবাইকে নিয়ে এসেছি। বাচ্চারা টিভি চ্যানেল ও ফেসবুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিড়িয়াখানার খাঁচায় দেখেছে। ওরা ভেবেছে এখানে আছে। এখন ওরা চায় রংপুরেও ওই মহিষটাকে আনা হোক।

তার সঙ্গে থাকা স্কুলপড়ুয়া আদিলা মল্লিক ও ফারহানা জামান বলে, শিশুপার্কে ট্রেনের ছুটোছুটি, সেতুর নিচে রঙিন মাছ, মনোরম পরিবেশ আর ভূতের সংসার দেখে বেশ ভালো লেগেছে। তবে, এখানে যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষটা থাকত তাহলে আমরা বেশি খুশি হতাম।

রংপুর নগরী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কাউনিয়া তিস্তা রেল সেতু। এটি জেলার শতবর্ষী একটি পুরাতন রেল সেতু। তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এই রেলওয়ে সেতুর পাশে ২০১২ সালে তিস্তা সড়ক সেতু তৈরি করা হয়েছে। গোধূলীবেলার মায়াবী সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থী এখন এই তিস্তা নদীর তীরে আড্ডার আসর সাজিয়েছে।

ঈদকে ঘিরে তিস্তা রেল সেতুর নিচ থেকে গোধূলীলগ্নের অপরূপ রূপের অবলোকন আর একটু স্বস্তির বিনোদন পেতে এখানে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষের আগানোগা বেড়েছে। একই চিত্র গঙ্গাচড়ার মহিপুর ঘাটে। তিস্তা নদীবেষ্টিত এই ঘাটে রংপুর-লালমনিরহাট জেলার মানুষের পারাপারে নির্মিত হয় তিস্তা সড়ক সেতু। এই সেতুর নিচে পানিতে ছুটে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট নৌকা। সেতুর আরেকপ্রান্তে বিশাল বালুচর।

মনোরম পরিবেশে নদীর বুকে পাল তোলা নৌকায় উঠে ঘুরছে অনেকেই। আবার কেউ কেউ ধুধু বালুচরে প্রিয়জনের হাত ধরে হেঁটে হেঁটে গল্প করে সময় কাটাচ্ছে। এখানে বিকেল বেলা নদীর কোলে হেলে পড়া সূর্যের লুকোচুরি খেলা আকৃষ্ট করার মতো। ঈদের দিন থেকেই সেতুর ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

মহিপুর ঘাটে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নগরীর বাবুখা এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি।  শিশু-কিশোররা বেশ আনন্দ করছে।

তিস্তা রেল সেতুতে দলবদ্ধভাবে ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, রংপুরে চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, ভিন্নজগত তারা বহুবার ঘুরে দেখেছেন। এসব বিনোদন স্পটে নতুন কিছু নেই। একারণে তিস্তা রেল সেতু পাড়ে এসেছেন তারা। বিকেলে নদীর বুকে সূর্যের খেলা, নির্মল বাতাস আর প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে সবাই একসঙ্গে বেড়িয়েছেন।

ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতি ও শুক্রবার (২৮ ও ২৯ মে) জেলার ছোট-বড় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা ছিল। একই চিত্র ছিল উন্মুক্ত দর্শনীয় স্থানগুলোতেও। এখন সব বয়সী মানুষের ঈদ উদযাপনের খোরাক যোগাচ্ছে বিনোদন কেন্দ্র ও পার্কগুলো।

এ বিষয়ে রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হযরত আলী ঢাকা পোস্টকে জানান, ভ্যাপসা গরমের কারণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি গত ঈদের চেয়ে অনেক কম। এবার তেমন চাপ নেই বরং দর্শনার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। চিড়িয়াখানায় নতুন নতুন প্রাণী আনার দাবি করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুরে একটি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে নগরীর হনুমানতলা এলাকায় ১৯৮৯ সালে রংপুর চিড়িয়াখানাটি গড়ে ওঠে। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৯২ সালে খুলে দেওয়া হয়।

প্রায় ২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটিতে ৩১ প্রজাতির ২৪৯টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, হরিণ, অজগর সাপ, ইমুপাখি, উটপাখি, ময়ূর, বানর, হনুমান, কেশওয়ারি, গাধা, ঘোড়া উল্লেখযোগ্য।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments