Homeজাতীয়ইরানে স্কুল শিশুদের ওপর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ঢাকায় চিত্র প্রদর্শনী

ইরানে স্কুল শিশুদের ওপর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ঢাকায় চিত্র প্রদর্শনী

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের রাস্তায় ইরানের মিনাব শহরে শাজারেহ তাইয়্যেবা স্কুলের কোমলমতি শিশুদের ওপর ‘হৃদয়বিদারক ও অমানবিক’ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানাতে ‘বাংলাদেশের সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’ ‘শিশুদের রক্তে রঞ্জিত মিনাব’ শিরোনামে একটি প্রতীকী উপস্থাপনা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (২২ মে) হওয়া এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীরমোহাম্মদী, আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী, ‘বাংলাদেশের সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’-এর মুখপাত্র শাহ মো. আলী আব্বাস। আরও ছিলেন ঢাকায় ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

ঢাকার ইরান দূতাবাস জা‌নি‌য়ে‌ছে, এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞের বাস্তব চিত্র, শহীদ শিশুদের স্মৃতি এবং মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত বর্বরতার নীরব সাক্ষ্য।

রক্তে রাঙানো খাতার পাতাগুলো আজও যেন প্রশ্ন করে কোন অপরাধে থেমে গেল ১৬৮টি ছোট্ট স্বপ্নের নিশ্বাস? যে হাতগুলো কলম ধরার কথা ছিল, সেই হাত আজ কবরের নীরব মাটিতে ঘুমিয়ে আছে।

মিনাবের আকাশে আজও ভেসে আসে শিশুদের অপূর্ণ হাসি, ভাঙা শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে লেগে আছে তাদের শেষ আর্তনাদ।

একটি ক্ষেপণাস্ত্র শুধু ভবন ধ্বংস করে না, এটি মায়ের বুক খালি করে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ ছিন্নভিন্ন করে দেয়।এই নিষ্পাপ শহীদ শিশুদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, তাদের নীরব চোখ যেন মানবতার বিবেককে চিরকাল তাড়া করে বেড়ায়।

‘শিশুদের রক্তে রঞ্জিত মিনাব’ শিরোনামে ওই আয়োজনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতবিক্ষত শ্রেণিকক্ষ, গণকবরে শতাধিক শিশুর দাফন এবং পরিবারের আহাজারির চিত্র স্থান পায়।

সাদা কাপড়ে রক্তরঙ্গা হাতের ছাপে ইরানি শিশুদের উপর চালানো নৃশংস হামলাকে স্মরণ করেন দর্শনার্থীরা; আর কাপড়ের ক্যানভাসে লেখেন প্রতিবাদের ভাষা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের ওই স্কুলে হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিল বলে উঠে এসেছে গণমাধ্যমে, ক্লাস চলাবস্থায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের শিক্ষক আর স্কুলে কর্মীরাও পড়েন ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে।

এমন হতবাক করা হামলা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে, যা কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা সে কথাই এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বলে আসছি।

প্রদর্শনীতে সংহতি জানান ঢাকায় ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদীসহ কর্মকর্তারা।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments