পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বিশাল আকৃতির এক রাজকীয় ষাঁড়। সাদা-কালো রঙের প্রায় ১ হাজার কেজি ওজনের এই গরুটি এক নজর দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। শান্ত স্বভাবের কারণে স্থানীয়দের কাছে গরুটি পরিচিতি পেয়েছে ‘শান্ত’ নামে।
মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের‘গাজী অ্যাগ্রো ফার্মে’ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হচ্ছে হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল ষাঁড়টি। ২০১৯ সালে মাত্র কয়েকটি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই খামারে বর্তমানে ৩২৭টিরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে। তবে চার বছর আগে এই খামারেই জন্ম নেওয়া ‘শান্ত’ এখন খামারের সবচেয়ে বড় গর্ব।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ২৮ মণ ওজন, ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট উচ্চতার গরুটিরদেহের কারণে নতুন কোনো মানুষ দেখলে শান্ত কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ে। এতটাই তার শক্তি যে, তাকে শুধু শেড থেকে বাইরে বের করতেই এক ধাক্কায় ১০ থেকে ১২ জন শক্ত সামর্থ্য মানুষের সহায়তার প্রয়োজন হয়। ‘শান্ত’র পেছনে দৈনিক তার খাবার ও পরিচর্যায় প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শান্তর সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে হয় কর্মীদের। বিশাল দেহি কিন্তু শান্ত স্বভাবের ‘শান্ত’র রয়েছে রাজকীয় ভাব। মানুষ দেখলে কিছুটা অস্থির হয়ে উঠলেও দেখাশোনায় থাকা কর্মীদের সঙ্গে তার বন্ধুসুলভ সম্পর্ক।
শান্ত’র সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী দেলোয়ার হোসেন বলেন, শান্ত অতিরিক্ত গরম একদম সহ্য করতে পারে না। তাই তার মাথার ওপর সারাক্ষণ বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু রাখতে হয়। শরীর ঠাণ্ডা রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে তাকে দুইবার গোসল করানো হয়।
দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী সিরাজ বলেন, খাবারের তালিকায় কোনো কমতি রাখা হয় না। আমরা ওকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার দেই। শান্তর দৈনিক খাদ্য তালিকায় থাকে পুষ্টিকর ভুট্টা ভাঙা, ছোলা বুট, শুকনো খড়, কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি ও বিশেষ সাইলেজ।
গাজী অ্যাগ্রো ফার্মের সার্বিক দায়িত্বে থাকা নান্নু মিয়া বলেন, শান্তর বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি (২৮ মণ)। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এই বিশালাকৃতির গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ টাকা।
তবে নান্নু মিয়া আশাবাদী হয়ে বলেন, গরুর যে আকার এবং বর্তমান বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে শান্তর মূল্য আরও বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা আশা করছি উপযুক্ত দামেই একে বিক্রি করতে পারব।
শান্তকে দেখতে আসা আব্দুল্লাহ হওলাদার নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ফেসবুকে ও টিভিতে বড় বড় গরু দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে পিরোজপুরে এত বড় ও সুন্দর গরু আমি আগে কখনো দেখিনি। শান্তকে দেখে সত্যি চোখ জুড়িয়ে গেল।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবার পিরোজপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ২১ হাজার ৮৯৯টি। জেলার খামারি ও চাষিদের কাছে প্রস্তুত আছে ২৭ হাজার ৪০৬টি পশু। ফলে জেলায় পশুর কোনো সংকট হবে না। এবার জেলার ৭টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২৬টি পশুর হাট বসবে।
পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার সিকদারের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, আমাদের মাঠপর্যায়ের তথ্য ও ধারণা অনুযায়ী, এটিই এই মুহূর্তে পিরোজপুর জেলার সবচেয়ে বড় গরু। সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে খামারি এটিকে বড় করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
ঈদের দিন যত এগিয়ে আসছে, শান্তকে ঘিরে পিরোজপুরবাসীর কৌতুহল ও উদ্দীপনা ততই বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, মঠবাড়িয়ার এই ‘কিং সাইজ’ শান্তর শেষ ঠিকানা কোন ভাগ্যবানের কোরবানি দাতার ঘরে হয়!

