গরমের সময় চোখে ঝাপসা দেখা সাধারণত পানিশূন্যতা, তীব্র রোদে চোখের ওপর চাপ কিংবা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এটি রক্তচাপের হঠাৎ পরিবর্তন, মাইগ্রেন কিংবা চোখের বড় কোনো রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে। কারণ তীব্র গরমে জনজীবন নাজেহাল। বাসাবাড়ির বাইরে বের হলেই গরমের কারণে নানা সমস্যা শুরু হয়। ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে মাথাব্যথা, পানিশূন্যতার মতো সমস্যা ছাড়াও রয়েছে চোখে ঝাপসা দেখা।
চোখ মানবদেহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক অবস্থায় যদিও চোখের সমস্যাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কারণ রেটিনা বা অক্ষিপটে এ ধরনের সমস্যার জন্য ব্যথা থাকে না। এ ধরনের সমস্যা যদি প্রথমে এক চোখে হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে অন্য চোখেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আর প্রচণ্ড গরমে রোদে থাকার অভ্যাস না থাকার কারণেও হঠাৎ রোদে গেলে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে চোখে ঝাপসা দেখা প্রধান সমস্যা। অনেক সময় শরীর দুর্বল থাকলেও গরমে কিংবা রোদে যাওয়ার পর চোখে ঝাপসা দেখা যায়। আর চোখে ঝাপসা দেখলে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া বাসাবাড়ির বাইরে বের হলে এমনিতেই অনেক ধুলাবালি যায় চোখে, যা চোখের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে। এ কারণে মুখ ধুয়ে নেওয়া ভীষণ জরুরি। প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস পরে বের হন। আবার চোখে ঝাপসা দেখা যদি এতেও দূর না হয় কিংবা মারাত্মক কিছু মনে হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অন্যান্য কারণেও অনেক সময় ছোট কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা প্রকাশ পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের রেটিনার নানা অসুখের মধ্যে বয়স-সম্পর্কিত ‘ম্যাকুলার ডিজেনারেইশন’ এবং ‘ডায়াবেটিস ম্যাকুলার এডিমা অন্যতম। যার কারণে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বিশ্বের মানুষ অন্ধত্বে ভুগে থাকেন।
এ বিষয়ে অল ইন্ডিয়া কলিজিয়াম অব অফথালমোলজির ফেলোশিপ প্রোগ্রামের সভাপতি রাজভর্ধন আজাদ জানিয়েছেন, এএমডি হচ্ছে— অক্ষিপটের রোগের প্রচলিত লক্ষণ। এতে চোখে ঝাপসা বা বিকৃতভাবে দেখতে পাওয়া, দৃষ্টির মাঝে কালো বিন্দু দেখে থাকেন। আবার কখনো কোনো সরল রেখাকে বাঁকা বা ঢেউ খেলানো দেখে থাকেন। তবে চোখের ছোট কি বড়, যে কোনো সমস্যায় চিকিৎসার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

