ফাইনাল রাউন্ড ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে পর্দা নামলো অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন-৪ এর। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
এবারের আসরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘ইউথ ইন অ্যাকশন, স্মার্টার ফার্মিং ইন মোশন’। বরাবরের মতোই বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড এই আয়োজনটি করে আসছে ২০২০ সাল থেকে। আসরে পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে অলিম্পিয়াডটির সঙ্গে ছিল- আই ফার্মার এশিয়া।
প্রায় ৬৫টি ইনস্টিটিউট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার তিনশত সাতান্ন জন অংশগ্রহণ করেছিলেন এই আসরে। যার মধ্যে ফাইনাল রাউন্ডে ৯টি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা করে প্রায় ১৫০ জন এবং সেখান থেকে প্রত্যেকে ক্যাটাগরিতে তিনজন বিজয়ী হয়, সেরা তিন সংগঠক ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড’ আয়োজিত এবারের আয়োজনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল তারুণ্যের উদ্দীপনার সঙ্গে কৃষিকে আরও টেকসই এবং উন্নত করতে কৃষি বিষয়ক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও এ বিষয়ে আগ্ৰহী করে তোলা।
এবারের অলিম্পিয়াডে ছিল ৯টি ক্যাটাগরি- অ্যাগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক প্রডাকশন, অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিকস, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স, অ্যাগ্রিকালচারাল ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, অ্যানিম্যাল হেলথ অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি।
সিজনের প্রথম ধাপে ফাইনালিস্টদের প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেজেন্টেশন শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে সেরা ১০টি প্রশ্ন বাছাই করা হয় এবং প্রশ্নকর্তাদেরকে বই উপহার দেওয়া হয়।
প্রোগ্রামে স্পেশাল স্পিকার হিসেবে চিত্ত মিডিয়া’-এর দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা এবং কৃষিভিত্তিক গল্প বলার অন্যতম পথিকৃৎ জুয়েল রানা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণ বশত উনি উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানে জাতীয় স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ বিজয়ী কৃষি ক্ষেত্রে জীবন্ত কিংবদন্তি – ড. এম এ রহিম স্যার উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তরুণদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন- আই ফার্মার, আপিজ ভেঞ্চার ও গেইন থেকে আগত প্রতিনিধিরা।
এবারের ইভেন্টে বিজয়ীরা হলেন- অ্যাগ্রিকালচার ক্যাটাগরিতে সামিয়া জাহান পূর্নতা (গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), মৌমিতা সরকার উপমা (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) ও নিশাত আরা শারমিন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি)
ফিশারিজ ক্যাটাগরিতে এ. কে. এম আহসান হাবীব সরকার (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), প্রমি সাহা (খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), স্বপ্নীল মাহমুদ (সিভিএএসইউ)।
লাইভস্টক প্রোডাকশন ক্যাটাগরিতে নোমান (হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. ওয়ালীউল সাইফুদ্দীন (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) ও সুশীলা পাল শামা (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)।
অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিক্স ক্যাটাগরিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর মাহমুদুর রহমান ফাহিম,ফারহানা ইয়াসমিন এবং অদিতি ঘোষ।
অ্যানিম্যাল হেলথ অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি ক্যাটাগরিতে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাবেদ মজুমদার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মো. হাসিবুল হাসান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাশরিফ আহমেদ।
ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন্না তালুকদার বন্যা,প্রজ্ঞা ভৌমিক এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাসরিন সুলতানা মুন্নি।
অ্যাগ্রিকালচারাল ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দীন ইসলাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মো. তাওসিফ বিল্লাহ এবং তাজভী মাহমুদ রাফাত।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ক্যাটাগরিতে সাব্বির আহমেদ (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি), সুবর্না আক্তার (সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), নীলিমা রাণী দাস রাখী (সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)
অনুষ্ঠানের শেষে বেস্ট ক্যাম্পাস হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), আইইউবিএটি এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরস্কার দেওয়া হয়।
এবারের অলিম্পিয়াডে পার্টনার হিসেবে সহযোগিতায় ছিল- প্রাণ, প্রিমিয়াম ফ্রুটস, ৯৬.৪ স্পাইস এফ এম, ফ্রেশ অনন্যা, আপিজ ভেঞ্চার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েট, নাগরিক টেলিভিশন, ম্যানোলা, খবরের কাগজ,অন্যধারা, ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ, ঢাকা পোস্ট, কালের কণ্ঠ, কালের কণ্ঠ , দ্য ফ্রন্ট পেইজ, মিট ব্রোস, ইউথপ্রিনিউর নেটওয়ার্ক, সিডিই।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক – মো. আতিকুর রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

