Homeখেলাধুলাপ্রথম জয়ের পর উচ্ছ্বাস ও বাস্তবতা জানালেন বাংলাদেশ কোচ

প্রথম জয়ের পর উচ্ছ্বাস ও বাস্তবতা জানালেন বাংলাদেশ কোচ

বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচ ছিল গতকাল (শুক্রবার)। সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা হয়েছে এই জার্মান-আমেরিকান কোচের। তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন। 

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতায় অত্যন্ত খুশি ডুলি, ‘প্রথমত, ম্যাচের ফলাফলে আমি অবশ্যই অত্যন্ত খুশি। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ২২, ৪২, ৩৭, ৭৬ এবং ১২০ নম্বর দলগুলোর বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স ও ফলাফল বেশ ভালো ছিল। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম। তারা বাতাসে (এরিয়াল বল) ভালো খেলে এবং তাদের বডি কন্টাক্ট (শারীরিক লড়াই) চমৎকার। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ান দল হিসেবে আমাদের এখানে কিছুটা অসুবিধা রয়েছে, তবে তাদের তুলনায় আমাদের গতি কিছুটা ভালো। আমরা মূলত পাসিং ফুটবল খেলা, মাঠের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করা এবং সুযোগ পেলেই বল জালে জড়ানোর ওপর ভরসা রাখছিলাম।’

বাংলাদেশ ম্যাচের ১০-১৫ মিনিট নিজেদের গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এরপর খেলার নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় সন্তুষ্ট বাংলাদেশের কোচ, ‘ম্যাচে আপনি কীভাবে শুরু করছেন সেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ৫ থেকে ১০ মিনিট আমরা কিছুটা ভুগেছি, তবে ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভিন্ন শৈলীর ফুটবলে খেলতে গেলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। প্রথমার্ধের ১০-১৫ মিনিটে আমরা নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে শুরু করি, গতি ব্যবহার এবং কিছু সুযোগ তৈরি করি। সামগ্রিকভাবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আরও কিছুটা ভালো ফুটবল খেলেছি।’

ডুলি এক সপ্তাহ বাংলাদেশ দলকে অনুশীলন করিয়েছেন। যদিও পূর্ণাঙ্গ দল পেয়েছেন ৪৮ ঘণ্টা আগে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘রক্ষণ থেকে খেলার সময় যারা সবচেয়ে বেশি বল হারিয়েছে, তারা মূলত গত দুই দিনে দলে যোগ দেওয়া খেলোয়াড়। তাই আমরা আগে কী আলোচনা করেছি বা কীভাবে অনুশীলন করেছি, সে সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা ছিল না। আমি দলের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম, যদিও আমরা একসঙ্গে মাত্র কয়েকদিন কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ম্যাচ জিতলেও কোচের চোখে কিছু দুর্বলতা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো গোল করার জন্য আমাদের এখনও প্রচুর সুযোগের প্রয়োজন হয়। মাঝে মাঝে আমাদের ফার্স্ট টাচ (বল নিয়ন্ত্রণ) ঠিকঠাক হয় না। তাই আমি দলের সঙ্গে একদম বেসিক বা মৌলিক বিষয়গুলো– যেমন পাসিং এবং রিসিভিং নিখুঁত করার জন্য অনুশীলন শুরু করেছি। রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠার সময় আমরা কিছু সহজ বল হারিয়ে ফেলেছি, যা ফুটবল মাঠে একেবারেই কাম্য নয়। আমি শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের এই বিষয়ে সতর্ক করেছি।’

বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা হামজা চৌধুরী। তার সম্পর্কে কোচ ডুলি বলেন, ‘আমার মতে হামজাই আমাদের সেরা খেলোয়াড়। মাঠের যেকোনো পজিশন থেকেই তাকে পাস দেওয়া যায় বা তাকে নিয়ে খেলা তৈরি করা যায়। বল পায়ে সে দারুণ শক্তিশালী। সে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, শারীরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং টেকনিক্যালিও অন্যদের চেয়ে শ্রেয়– আর এই কারণেই সে ইংল্যান্ডে খেলে। সে একজন লিডার ও সত্যিকারের টপ-ক্লাস খেলোয়াড়, যাকে যেকোনো দলই তাদের স্কোয়াডে পেতে চাইবে। ম্যাচ যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আমরা তার ওপর ভরসা রাখতে পারি যে সে বিশেষ কিছু একটা করবেই। সে দলে থাকায় আমাদের কার্যকারিতা আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।’

সমর্থকরা খেলার প্রাণ। সান মারিনোতে খেলা হলেও বাংলাদেশ ঘরের মাঠের মতোই সমর্থন পেয়েছে। এতে অভিভূত নতুন কোচ, ‘ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের বলেছিলাম– “দেখো ছেলেরা, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪০০০ মানুষ শুধু তোমাদের খেলা দেখতে এখানে এসেছে। চলো ওদের মুখে হাসি ফোটাই। ওদের জন্য খেলি এবং একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসি যাতে ওরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে।” সমর্থকদের এই ভালোবাসা অনুপ্রেরণা দলের জন্য।’

‘সমর্থকদের এই আবেগ খেলোয়াড়দের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। আমরা হয়তো জার্মানি বা ইতালি নই, অবশ্য ইতালি তো কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি। আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারভুক্ত নই। তবে আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু আছে, তা দিয়ে আমরা এই মানুষগুলোকে খুশি করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ সূচনা’, আরও যোগ করেন ডুলি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments